নিউজ ও ইভেন্ট

বেসিক ব্যাংকের ৩৭-তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

শতভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক পিএলসি.-এর ৩৭-তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী এর সভাপতিত্বে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের শতভাগ শেয়ারহোল্ডার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক সভায় উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু মোঃ মোফাজ্জেল সভায় উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান এবং নানান প্রশ্নের উত্তর দেন। সভায় ব্যাংকের ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। 

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য- সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং বর্তমানে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য মুন্সি আব্দুল আহাদ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ, মোঃ মতিউর রহমান, এফসিএ, এফসিএমএ, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত গ্রেড-১ কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ ব্যাংকার এস.এম. ইকবাল হোছাইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বেসিক ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক রুপ রতন পাইন, মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব মোঃ হাসান ইমাম, ব্যাংকের অডিট ফার্ম কাজী জহির খান এন্ড কোং-এর প্রতিনিধি এসময় উপস্থিত ছিলেন। 

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক তারঁ বক্তব্যে বলেন, বেসিক ব্যাংক এখন ক্রমশ ভালো করছে। লোকসান কমে আসার ধারায় রয়েছে। অব্যাহত প্রচেষ্টার মাধ্যমে লোকসানের পরিমান আরো কমিয়ে আনতে হবে। আমানতও বাড়ছে, তার মানে ব্যাংকের প্রতি মানুষের কনফিডেন্স বাড়ছে। সরকারি ব্যাংক সরকার দায়িত্ব নিবে আমানতের এটা বলার কারণে অনেক কনফিডেন্স ফিরে এসেছে। এর ফলে ঋণ-আমানত অনুপাত কমে এসেছে। এখন ঋণ দেয়ারও সক্ষমতা বেড়েছে। সতর্কতার সাথে এখন নতুন ঋণ বিতরণ করতে হবে। বেসিক ব্যাংক নিয়ে আমরা পুরোপুরি আশাবাদী, ব্যাংকটি ভালো হবে। 

তিনি বলেন, আমি বেসিক ব্যাংকের বোর্ড মেম্বারদের যতদূর জানি অনেক দক্ষ। বেসিক ব্যাংকের মানবসম্পদের মানও ভালো। আমি যখন বিভিন্ন সময় জিএম এবং ডিএমডি’দের পদোন্নতির ভাইবা বোর্ডে থাকি তখন আমরা বুঝতে পারি। আমাদের বিশ্বাস এখানে যারা কাজ করে তারা ব্যাংকটাকে টেনে তুলতে পারবে। এসময় তিনি ব্যাংকটির অবস্থার উন্নতি সাধনে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার যৌথ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তিনি সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। এছাড়া নন-ইন্টারেস্ট ইনকাম বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন। 

ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, খেলাপি ঋণ আদায় আমাদের মূল ফোকাস। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের আলোকে খেলাপি ঋণ আদায় প্রক্রিয়া জোরদার করা  এবং আইনি প্রক্রিয়া গতিশীল করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অন্যান্য সকল নির্দেশনা যথাযথ পরিপালন ও কর্মক্ষেত্রে সুশাসন বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শেখ ফরিদ ব্যাংকের নন-ইন্টারেস্ট ইনকাম বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রুপ রতন পাইন বলেন বেসিক ব্যাংকের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি ঘুরে দাড়াবে।